আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেল আবিব: ইসরায়েলে এই মুহূর্তে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারে। শুক্রবার প্রকাশিত এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক শিবির সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের অবসান চান বলে অভিমত দিয়েছেন।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাজার ইনস্টিটিউট কর্তৃক ৫০২ জন ইসরায়েলি নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই জরিপটি প্রকাশ করেছে দেশটির হিব্রু দৈনিক ‘মারিভ’। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উচিত লিকুদ পার্টির নেতৃত্ব ছেড়ে রাজনীতি থেকে চূড়ান্তভাবে অবসর নেওয়া। বিপরীতে মাত্র ৩৮ শতাংশ নাগরিক চান তিনি দলের নেতৃত্বে বহাল থেকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। বাকি ৭ শতাংশ এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি। জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির হার (মার্জিন অব এরর) ৪.৪ শতাংশ।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব এই জরিপের ফলাফলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনা, লেবানন সীমান্তে নতুন করে তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এবং ইসরায়েলি সমাজের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে দেশটির জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল ‘ওৎজমা ইয়েহুদিত’-এর জনপ্রিয়তায়।
আসন বিন্যাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের প্রয়োজন। নতুন জরিপ বলছে, এখন নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন জোটের আসন সংখ্যা গত সপ্তাহের ৫১টি থেকে আরও কমে মাত্র ৪৯-এ নেমে আসবে। বিপরীতে, প্রধান ইহুদি বিরোধী দলগুলোর জোট এককভাবে ৬১টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারে। এছাড়া আরব দলগুলো পেতে পারে ১০টি আসন।
এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যেও তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলো নেসেট ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে দুটি পৃথক বিল উত্থাপন করার পর, বর্তমান সরকারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পাল্টা একটি আগাম বিল জমা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে নেসেটে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নতুন সাধারণ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমান নেসেটের মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই আগাম নির্বাচন আয়োজনের জোর প্রস্তুতি ও আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আইসিসির এই পদক্ষেপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম চাপে থাকা নেতানিয়াহু এবার দেশের অভ্যন্তরেও তীব্র রাজনৈতিক ও জনবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন, যা আগামী নির্বাচনে তার পতন ত্বরান্বিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


