জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে দুই দেশের উপদেষ্টা পর্যায়ে নিয়মিত মাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে লাতিন আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম-এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এই নিয়মিত মাসিক পর্যালোচনার মাধ্যমে মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার এই দুটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈঠকে এই বাণিজ্য খাতকে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে যৌথ বিনিয়োগ ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং কৃষি খাতের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশের উপদেষ্টারা একমত পোষণ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ-ব্রাজিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে আগামী দিনগুলোতে লাতিন আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার যেমন সহজ হবে, তেমনি বাংলাদেশে ব্রাজিলের বিনিয়োগের পথও সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


