সৌদি আরবে শ্রম আইন লঙ্ঘন: ৭২০০ ওয়ার্ক ভিসা বাতিল, সরকারি সেবা স্থগিত

সৌদি আরবে শ্রম আইন লঙ্ঘন: ৭২০০ ওয়ার্ক ভিসা বাতিল, সরকারি সেবা স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে সাত হাজার ২০০টিরও বেশি ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করেছে। আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব ধরনের সরকারি পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল এবং আধুনিক ‘স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থা’র যৌথ সহায়তায় প্রায় ৯১ হাজার সন্দেহজনক চুক্তি ও কর্মসংস্থান খতিয়ে দেখা হয়েছে। নিবিড় তদন্তের পর অবৈধ কর্মসংস্থান এবং ভুয়া চুক্তি সম্পর্কিত ১৩ হাজার ৫০৯টি মামলায় সুনির্দিষ্ট আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হয়। এর প্রেক্ষিতেই সাত হাজার ორশোর বেশি ভিসা বাতিলের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মামলাগুলোকে সৌদির জাতীয়করণ বা ‘নিতাকাত’ (Saudisation) কর্মসূচির হিসাব থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যেসব বিদেশি কর্মী এই অবৈধ বা ভুয়া প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের বৈধ উপায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে মামলাগুলো দেশটির ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল’ বা হাদাফ (HADAF)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে বেসরকারি খাতের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় আড়াই লাখ (২,৫০,০০০) সরেজমিন পরিদর্শন বা ফিল্ড ভিজিট পরিচালনা করা হয়েছে। এই পরিদর্শনে সামগ্রিকভাবে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে বড় ধরনের অনিয়ম এড়াতে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আইনি ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিতে ২ লাখ ৩০ হাজার সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন। এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন জনশক্তি নিয়োগ বা রিক্রুটিং কার্যালয়গুলোতে তদন্ত চালিয়ে ৩ হাজার ৫২২টি আইনি লঙ্ঘন নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রচলিত শ্রম আইন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধভাবে গৃহকর্মী সরবরাহ এবং অননুমোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে সৌদির আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এই ধরণের অবৈধ তৎপরতায় লিপ্ত থাকার দায়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার ২৩৮টি সক্রিয় অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মানবপাচার প্রতিরোধের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সৌদি আরব তার শ্রম বাজারে নজরদারি বাড়িয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে সম্ভাব্য মানবপাচারের ঝুঁকি রয়েছে এমন প্রায় ৫৪ হাজার ঘটনার আগাম ও সতর্কতামূলক পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। একই সাথে নাগরিক ও প্রবাসীদের সমন্বয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিন মাসে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে পাওয়া ১৫ হাজার ৫৬৩টি অভিযোগের বিপরীতে রেকর্ড ৯৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।

সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ পরিকল্পনার অধীনে শ্রম বাজারের আধুনিকায়ন, কর্মী ও নিয়োগকর্তার অধিকার সুরক্ষা এবং ভুয়া চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয়করণের আইন ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ