জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশে বসবাসরত সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ অন্যতম প্রধান ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও বৈচিত্র্য রক্ষায় সব জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
শনিবার (১৬ মে) সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তির সোপানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ফেডারেশন আয়োজিত ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানায় বাঙালি সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী হলেও এখানে সাঁওতাল, মোরা, হাজং, চাকমা ও মারমাসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সমীকরণের রাজনৈতিক ভুলের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে একটি একক পরিচয়ে যুক্ত করেছে, যা মূলত একটি বহুসাংস্কৃতিক বাগানের মতো বৈচিত্র্যময়।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব জাতি ও গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। শহীদ প্রেসিডেন্টের আদর্শকে ধারণ করে এই জাতীয়তাবাদী চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ। বক্তারা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


