রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারে জাতীয় ঐক্যের ডাক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর

রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারে জাতীয় ঐক্যের ডাক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের প্রতিটি ধাপে সব দেশপ্রেমিক নাগরিককে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকারের করণীয় নির্ধারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বর্তমান সময়কে সংস্কার ও অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে ঢাকার বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ডা. জহিরুল ইসলাম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধি ও চলচ্চিত্র কর্মীরা অংশ নেন। সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র অনুরাগী ও সংগঠক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ।

তথ্যমন্ত্রী দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিক্রমার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশ যেমন বহু গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ও সংকটের মুখোমুখিও হয়েছে। অতীত ও বর্তমানের এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিকভাবে প্রজ্ঞাবান ও সচেতন করে তুলেছে। এই অভিজ্ঞতার আলোকেই রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।

চলচ্চিত্রকে সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই সৃজনশীল মাধ্যমে যারা সম্পৃক্ত আছেন, তারা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। মেধা ও মননের এই শিল্পে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানকে রাষ্ট্র সবসময় মূল্যায়ন করে। তবে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে এবং শিল্পীদের কল্যাণে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও কাঙ্ক্ষিত পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। আগামীতে এই খাতের সীমাবদ্ধতা দূর করে সরকারি সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির আশ্বাস দেন তিনি।

সম্মেলনে উপস্থিত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি করা হবে, তা যেন কেবল চলচ্চিত্র আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং দেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত সামাজিক রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে চলচ্চিত্রকে বড় ভূমিকা পালন করার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য একটি ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে আগ্রহী। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রগুলোকে সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল স্রোতে যুক্ত করার এই আহ্বান দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চলচ্চিত্রকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই সরকারি বার্তা আগামীতে সাংস্কৃতিক নীতিমালায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ