অর্থ ও স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়া এবং টিকার তীব্র সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের কোনো টিকার মজুত ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিগত দীর্ঘ সময় জুড়ে নতুন করে কোনো মিজেলস (হাম) ভ্যাকসিনের সংগ্রহ বা টিকাদান কার্যক্রম না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে সরকারি গুদামে হামের কোনো টিকা অবশিষ্ট ছিল না, যা বর্তমান জনস্বাস্থ্য সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো শিশুদের এই টিকা না দেওয়া হলে দেশে বড় ধরনের মহামারি দেখা দিতে পারে। দেশে পাঁচ বছর পর পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম গতিশীল করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও পূর্ববর্তী শূন্যতার কারণে বর্তমানে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় হামের বর্তমান প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে আক্রান্তদের জন্য দ্রুত যথাযথ আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নকরণ) এবং সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সাথে রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত লিফলেট বিতরণসহ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করার জন্য ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেমিনারে চিকিৎসক ও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।


