সারাদেশ ডেস্ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে একটি সড়ক দুর্ঘটনার জেরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে সৃষ্ট এই যানজটের কারণে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহনশ্রমিক এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
রবিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে এই যানজটের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কের মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই যানবাহনের দীর্ঘ সারি একপর্যায়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কের একটি বড় অংশে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে থাকায় বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তির মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। গ্রীষ্মকালীন তীব্র গরম এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ প্রকাশ পেতে দেখা যায়। এমনকি জরুরি চিকিৎসাসেবার কাজে নিয়োজিত বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও এই দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরিবহন চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে মহাসড়কের এই অচলাবস্থার বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। রূপগঞ্জ থেকে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া চালক ওসমান গনি জানান, তিনি দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছেন। দাউদকান্দি এলাকায় দুর্ঘটনার খবর শুনলেও ঠিক কখন নাগাদ যান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না।
একই মহাসড়ক দিয়ে কুমিল্লাগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী আসলাম মিয়া জানান, তিনি চৈতি স্ট্যান্ডের সামনে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িগুলো সামান্যতম নড়াচড়া করতে না পারায় নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অন্যদিকে, কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী লেনের পরিবহন চালক শাহাবুদ্দিন জানান, মহাসড়কের অপর পাশে যানবাহনের দীর্ঘ জটলা তৈরি হতে দেখেছেন তিনি। মহাসড়কের এক পাশের দুর্ঘটনার প্রভাব যে অন্য জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা যানজট সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক চটগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে। ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার যানজটের কারণে ব্যবসায়িক খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দ্রুত রেসকিউ টিম বা রেকার যান প্রস্তুত না থাকার কারণে একটি ছোট দুর্ঘটনাও পরবর্তীতে বিশাল যানজটের রূপ নেয়। এই ক্ষেত্রেও দাউদকান্দির ঘটনার প্রভাব প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও মদনপুর পর্যন্ত এসে পৌঁছায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, দাউদকান্দি এলাকায় মূলত একটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে মহাসড়কের কাঁচপুর ও সোনারগাঁ অংশে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। তবে বিকল হয়ে যাওয়া যানবাহনটি মহাসড়ক থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত যানটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে পুনরায় ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল শুরু করেছে। দুপুরের পর থেকে যানজট পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি হতে শুরু করে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।


