জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সোমবার থেকে অতিরিক্ত ১০টি বিশেষ (স্পেশাল) ট্রেন পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৪ মে) সকালে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। প্রতি বছরই ঈদের এই সময়ে ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরি হয়। যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবং শিডিউল বিপর্যয় রোধ করে সময়মতো মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ ট্রেনগুলো নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেলমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। রোববার সকালে রেলমন্ত্রী নিজেই দুটি ট্রেনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি এবং যাত্রীসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। তবে সকাল থেকে তিনটি ট্রেনের শিডিউলে কিছুটা বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ মিনিট এবং আরেকটি ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। রেলমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, আজকের মধ্যেই এই সাময়িক বিলম্বের সমস্যা সমাধান করে ট্রেনের সময়সূচি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রেলের ছাদে ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে ঠেকাতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কমলাপুরসহ দেশের প্রধান প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্টেশনে প্রবেশের মুখে টিকিট কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছাদে কিংবা ট্রেনের বাফারে যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করতে না পারে, সেজন্য বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ১০টি ট্রেন চালু করার এই সিদ্ধান্ত ঈদযাত্রার চরম মুহূর্তে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। তবে কেবল বিশেষ ট্রেন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং ঢাকা ছাড়ার পর মাঝপথের স্টেশনগুলোতেও যাতে ট্রেনের সময়সূচি ঠিক থাকে এবং অতিরিক্ত যাত্রীরা জোরপূর্বক ছাদে উঠতে না পারে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত থাকলে এবারের ঈদযাত্রা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


