অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহার অবকাশ শুরুর আগে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সূচক বাড়লেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয় বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎসবের আগে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ সাধারণত নতুন বিনিয়োগে নিষ্ক্রিয় থাকে এবং তহবিল উত্তোলনের প্রবণতা বাড়ে, যার প্রভাব সামগ্রিক লেনদেনে প্রতিফলিত হয়েছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) এদিন আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই ইতিবাচক ধারা অন্য দুটি সূচকেও লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসইএস’ (DSES) ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮২ পয়েন্টে এবং বড় মূলধনী ৩০টি কোম্পানির সূচক ‘ডিএসই-৩০’ ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
তবে সূচকের এই উত্থানের বিপরীতে ডিএসইতে লেনদেনের গতিতে বড় পতন দেখা গেছে। রবিবার এই বাজারে মোট ৭৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অংশগ্র্রহণ কমে যাওয়া এবং উৎসবের প্রাক্কালে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধীর নীতিকেই এই লেনদেন হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ডিএসইতে রবিবার মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধির তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৬১টি কোম্পানি, দর হারিয়েছে ১৩৬টি এবং অপরিবর্তিত বা অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। অধিকাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি সূচককে ইতিবাচক রাখতে সাহায্য করলেও মোট টাকার অঙ্কে লেনদেন বাড়াতে তা পর্যাপ্ত ছিল না।
অন্যদিকে, দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই (CASPI) ৭০ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে মোট ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ৭১টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।
ডিএসইর মতো সিএসইতেও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। রবিবার সিএসইতে মোট ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসের ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় ৩ কোটি ২১ লাখ টাকা কম।
দীর্ঘ ছুটির পূর্বে পুঁজিবাজারে এমন মিশ্র প্রবণতা নতুন কিছু নয়। অর্থনৈতিকভাবে এই সময়টাতে ব্যাংকিং খাত থেকে টাকা তোলার চাপ থাকে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উৎসবের খরচ মেটাতে পোর্টফোলিও পুনর্গঠন বা শেয়ার বিক্রির দিকে বেশি মনোযোগ দেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ সামাল দিয়ে সূচক ধরে রাখা সম্ভব হলেও, সামগ্রিক মূলধন প্রবাহ সাময়িকভাবে ধীর হয়ে পড়ে। ছুটির পর নতুন সপ্তাহে বাজার খোলার পর পুঁজিবাজারে আবার স্বাভাবিক তারল্য প্রবাহ ও লেনদেনের গতি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকরা।


