খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর পর্দা ওঠার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের চূড়ান্ত দল প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহেই ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে যাচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। দল ঘোষণার এই অন্তিম মুহূর্তে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলের সম্ভাবনা ও রণকৌশল নিয়ে গণমাধ্যমে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
কোচ দে লা ফুয়েন্তে স্প্যানিশ দলকে এবারের আসরের অন্যতম প্রধান শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ফেবারিট তকমা পাওয়ার পাশাপাশি অতি-আত্মবিশ্বাসে না ভুগে বাস্তবসম্মত ও সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, স্পেন ফুটবল বিশ্বে অন্যতম পরাশক্তি এবং তারা শিরোপার দাবিদার—এটি বলতে দ্বিধা নেই। তবে একই সঙ্গে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোকেও সমান শক্তিশালী এবং ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে প্রতিটি ম্যাচে মাটিতে পা রেখে, অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল স্পেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর ‘লা রোহা’ খ্যাত দলটি আবারও বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে। বিগত কয়েকটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায়, এবারের আসরটি স্পেনের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি নতুন উদ্যমে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের একটি সুষম সমন্বয় গড়ার চেষ্টা চলছে।
স্পেন দলের ভেতরের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যকার ঐক্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোচ ক্লাবভিত্তিক বিভাজনের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ দূর করার দাবি করেন। স্প্যানিশ ফুটবলে ঐতিহ্যগতভাবে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বজায় থাকার ইতিহাস রয়েছে। তবে বর্তমান স্কোয়াড প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় দলে কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের পরিচয় খাটবে না। এখানে সবাই একক জাতীয় পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ। খেলোয়াড়দের মানসিকতায় এই পরিবর্তন দলের ভেতর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং সবাই ব্যক্তিগত বা ক্লাব স্বার্থ ভুলে দেশের জন্য সেরাটা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চূড়ান্ত স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও দলীয় সূত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান প্রতিভা, বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের দলে থাকা নিশ্চিত। তবে কার্ডজনিত সমস্যা বা কৌশলগত কারণে কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারবেন না। ইয়ামালের অনুপস্থিতি প্রথম ম্যাচে স্পেনের আক্রমণভাগে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যমাঠের নির্ভরযোগ্য সেনানি গাভি সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। চোট কাটিয়ে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় স্কোয়াডে তার অন্তর্ভুক্তিও প্রায় নিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এবারের দলটিতে তরুণদের প্রাধান্য বেশি থাকলেও ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে তারা বেশ পরিপক্ব। ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার পর খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট পজিশন এবং কোচের মূল রণকৌশল আরও স্পষ্ট হবে। বৈশ্বিক এই মহোৎসবে স্পেনের সাম্প্রতিক ফুটবল শৈলী এবং কোচের দূরদর্শী পরিকল্পনা দলটিকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


