জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইউজিসির, গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধির আশ্বাস

জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইউজিসির, গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধির আশ্বাস

শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ডেস্ক

দেশে গবেষণার মানোন্নয়ন এবং একটি সমন্বিত ও কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সার্বিক গবেষণার তথ্য ও ফলাফল সংরক্ষণ, সমন্বয় এবং কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘ইউজিসি পিএইচডি স্কলারশিপ ২০২৫-২০২৬’-এর আওতায় নির্বাচিত গবেষকদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অগ্রযাত্রার পেছনে গবেষণার মৌলিক ভূমিকা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গবেষকদের কাজের স্বীকৃতি যেমন সংরক্ষিত হবে, তেমনি পুনরাবৃত্তি রোধ করে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পথ সুগম হবে।

গবেষণায় অর্থায়নের সংকটের বিষয়ে প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করে ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, বিগত এক বছরে ইউজিসির মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রমে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রায় ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের গবেষণাবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে এই খাতে অর্থায়নের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মানসম্মত গবেষণার জন্য অর্থের কোনো সংকট থাকবে না, কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়া হয়। ড. মামুন আহমেদ সতর্ক করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট খাতের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ অন্য কোনো খাতে বা উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাবে না। শিক্ষার্থী, তরুণ শিক্ষক ও অভিজ্ঞ গবেষকদের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংশ্লিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমেরই মূল উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে এমন বাস্তবভিত্তিক সমাধানমূলক গবেষণা পরিচালনার জন্য গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয় অগ্রাধিকার ও বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করা হলে তা দেশের নীতি নির্ধারণেও সহায়ক হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউজিসি পিএইচডি স্কলারশিপ কর্মসূচির জন্য প্রকাশিত উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে মোট ১৪৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। উচ্চ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ৬৫ জন গবেষককে এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এই নির্বাচিত গবেষক এবং তাঁদের গবেষণার তত্ত্বাবধায়কেরা অংশ নেন।

রিসার্চ গ্র্যান্টস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহীন সিরাজ। বক্তারা নির্বাচিত গবেষকদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের পাশাপাশি দেশের সার্বিক গবেষণা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ