স্পোর্টস ডেস্ক
চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ব্রাজিল। তবে আগামী বুধবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সেলেসাও শিবিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ডের হিসাব।
প্রথম ম্যাচে মরক্কো এবং দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে জয়ের পর ব্রাজিলের তিন মূল ফুটবলার—রজার ইবানেজ, কাসেমিরো এবং ডগলাস সান্তোস একটি করে হলুদ কার্ডের খাড়ায় রয়েছেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তারা যদি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী রাউন্ডের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বেন। আগামী ম্যাচে স্কটিশদের বিরুদ্ধে ড্র করলেই ব্রাজিলের নকআউট পর্ব নিশ্চিত হবে এবং জয় পেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে যাবে দলটি। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের কৌশল নির্ধারণে কোচকে এখন খেলোয়াড়দের কার্ডের বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে।
বিশ্বকাপে দল এবং ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা হলুদ কার্ড ও শাস্তির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের ওপর জমে থাকা হলুদ কার্ডের বোঝা এখন থেকে দুটি ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে।
প্রথম ধাপে, গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হওয়ার পর যখন নকআউট বা দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে, তখন খেলোয়াড়দের আগের সব একক হলুদ কার্ড বাতিল হয়ে যাবে। দ্বিতীয় ধাপে, কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে খেলোয়াড়দের কার্ডের হিসাব আবার নতুন করে (শূন্য থেকে) শুরু হবে। ফিফার এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো তারকা ফুটবলার যেন কেবল দুটি একক হলুদ কার্ডের জন্য সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো বড় ম্যাচ মিস না করেন।
তবে ফিফার এই নতুন নিয়মে একটি কঠোর শর্তও রয়েছে। যদি কোনো খেলোয়াড় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি পান, তবে তিনি সরাসরি লাল কার্ডের সমতুল্য শাস্তি পাবেন। অর্থাৎ, ওই খেলোয়াড়কে পরবর্তী নকআউট রাউন্ডের প্রথম ম্যাচটিতে বাধ্যতামূলকভাবে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
ফলে ব্রাজিলের জন্য স্কটল্যান্ড ম্যাচটি কেবল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই-ই নয়, বরং কাসেমিরো, ইবানেজ ও সান্তোসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের কার্ডের হাত থেকে বাঁচিয়ে নকআউট পর্বে নিরাপদ রাখার এক বড় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষাও।


