আইন আদালত ডেস্ক
ঢাকা মহানগরীর সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৫৯২টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। একই সঙ্গে আইন অমান্য করায় ৮৩৪টি যানবাহন ডাম্পিং ও রেকার করা হয়েছে।
গত রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন আটটি ট্রাফিক বিভাগে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবৈধ পার্কিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে এই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে। এই বিভাগে ১৭টি বাস, ১১টি ট্রাক, ২১টি কাভার্ডভ্যান, ৭০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ২৯৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৮৮টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সংখ্যার দিক থেকে এর পরেই রয়েছে মতিঝিল ও উত্তরা বিভাগ। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে ৪৬৩টি এবং ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪৪৩টি মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। উত্তরা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫২টি বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা গতবকালের অভিযানে একক বিভাগে বাসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মামলার ঘটনা।
অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৩৪৮টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২৭৯টি এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২৬০টি মামলা করা হয়েছে। তুলনামূলক কম মামলা হয়েছে ওয়ারী ও রমনা বিভাগে; যেখানে যথাক্রমে ১৯০টি ও ১২১টি মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিটি বিভাগেই মোটরসাইকেল এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।
মামলা দায়েরের পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং গুরুতর নিয়মভঙ্গের কারণে মোট ৫৪৯টি গাড়ি জব্দ করে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সড়কের ওপর অবৈধভাবে পার্কিং করা বা বিকল হওয়া ২৮৫টি গাড়ি রেকারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের তীব্র যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যত্রতত্র চলাচল এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে লেন পরিবর্তন রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে। ডিএমপির এই ধরনের নিয়মিত অভিযান চালকদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে কেবল জরিমানা বা মামলার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও আইনি তৎপরতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।


