জাতীয় ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের ভোরে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে গেছে। ফলে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ঢাকার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে অতিভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর ৫টা থেকে রাজধানীজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়, যা সকালের পরও থেমে থেমে অব্যাহত রয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টন, ধানমন্ডি এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো সড়কে জলজট রূপ নিয়েছে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে। সড়কগুলোতে পানি জমে থাকায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক যানবাহন সড়কের মাঝেই বিকল হয়ে পড়েছে, যা নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও স্থবির করে তুলেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পরও এই তাৎক্ষণিক জলজট নাগরিক জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকার বাইরে সামগ্রিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোতে বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এই অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং মাছের ঘের। গৃহহীন পরিবারগুলো স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২৪২ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বেশ কিছু স্থানে রাস্তা ধসে পড়া এবং কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলা ও উপজেলা শহরগুলোর সাথে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতা পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবক দল উদ্ধার কাজে অংশ নিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গতি ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও বৃষ্টির এই প্রবণতা কমার সম্ভাবনা নেই। রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী এবং কোনো কোনো স্থানে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণে উপকূলীয় অঞ্চল এবং পাহাড়ি জেলাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি অপরিবর্তিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


