ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি: একাদশ থেকে সূর্যবংশীর বাদ পড়া ও ভারতের সিরিজ বিশ্লেষণ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টি: একাদশ থেকে সূর্যবংশীর বাদ পড়া ও ভারতের সিরিজ বিশ্লেষণ

ক্রীড়া ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ ম্যাচে ভারতের দলীয় একাদশ নির্বাচন নিয়ে ক্রিকেট মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে একাদশের বাইরে রেখে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসনকে খেলানোর সিদ্ধান্তটি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে কন্ডিশন ও ব্যাটিং কম্বিনেশনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারতীয় ওপেনিং জুটিতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যেই সূর্যবংশীকে বেঞ্চে বসানো হয়। মূলত নিয়মিত বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মার সাথে একজন ডানহাতি ব্যাটারের সমন্বয় তৈরি করতে সঞ্জু স্যামসনকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কৌশলগত এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার জানান, বর্তমান কন্ডিশনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত একটি সেরা কম্বিনেশন খুঁজছিল দল। টপ অর্ডারে বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটারের ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার নিজের ব্যাটিং পজিশন উল্লেখ করে বলেন, দলের শীর্ষসারির ব্যাটারদের মধ্যে তিনি নিজেই অন্যতম ডানহাতি ছিলেন। ফলে ব্যাটিং লাইন-আপে বৈচিত্র্য আনতে এই ম্যাচে ভিন্ন একটি কম্বিনেশন চেষ্টা করা জরুরি ছিল, যা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে কন্ডিশন অনুযায়ী বেশি কার্যকর মনে হয়েছে। তবে একাদশের বাইরে থাকলেও বৈভব সূর্যবংশীর সামর্থ্যের ওপর দলের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। অতীতে ভারতের বহু জয়ে এই তরুণ ব্যাটারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এবং তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

কৌশলগত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সত্ত্বেও পুরো সিরিজ জুড়ে ভারত তাদের কাঙ্ক্ষিত বা সেরা কম্বিনেশন খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং দল কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি। কন্ডিশনের ক্রমাগত পরিবর্তনকে এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচের পর থেকেই প্রতিটি ভেন্যু ও ম্যাচের কন্ডিশনে তারতম্য দেখা গেছে। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এই ধরনের পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং মাঠের পরিস্থিতিতে আরও সচেতন থাকা প্রয়োজন ছিল বলে ভারতীয় শিবির মনে করছে।

সিরিজের সামগ্রিক ব্যাটিং ব্যর্থতা, বিশেষ করে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে দলের দুর্বলতাগুলো নিয়ে আত্মপর্যালোচনার তাগিদ দিয়েছেন অধিনায়ক। ম্যাচগুলোতে ভারত বড় কোনো পার্টনারশিপ বা জুটি গড়ে তুলতে পারেনি। দ্রুত রান তোলার অতিরিক্ত মানসিকতার কারণে মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হয়েছে দলকে। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন থাকলেও, পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী নির্দিষ্ট বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া এবং উইকেটে কিছুটা সময় নিয়ে ইনিংস পুনর্গঠন করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তী সিরিজগুলোর আগে এই ভুলগুলো শুধরে নেওয়াই এখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান লক্ষ্য।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ