আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুললেন আলভারেস ও মার্তিনেস, বিদায় নিল সুইজারল্যান্ড

আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুললেন আলভারেস ও মার্তিনেস, বিদায় নিল সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। আগামী ১৫ জুলাই আসরের প্রথম সেমিফাইনালে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অধীনে রেখে আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটেই সাফল্যের দেখা পায় তারা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার কিক থেকে ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক হেডে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এই গোলের সূত্র ধরে বিশ্বকাপে নিজের দশম অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করেন লিওনেল মেসি, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বমঞ্চে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড।

এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সুইজারল্যান্ড নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় সুইসরা। ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। রিকার্দো রদ্রিগেসের বাড়ানো পাস থেকে নিখুঁত শটে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপান সুইস ফরোয়ার্ড ড্যান এনদোয়ে।

১-১ সমতায় ম্যাচ যখন জমে উঠেছে, তখনই এক বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড শিবির। ম্যাচের ৭২ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের ভান করে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা (ডাইভ) করেন সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো। রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও সুইজারল্যান্ড তাদের রক্ষণভাগ শক্ত রাখে। আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয় ইউরোপের এই দলটি।

তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সুইসদের সেই রক্ষণব্যূহ ভেঙে পড়ে। ম্যাচের ১১২ মিনিটে লিওনেল মেসির একটি জোরালো আক্রমণ সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল প্রতিহত করলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল ডি-বক্সের বাম দিকে পেয়ে যান আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেস। সেখান থেকে চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালের ওপরের কোণায় পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।

ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যখন সুইজারল্যান্ড সমতায় ফিরতে মরিয়া, তখন পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা লাউতারো মার্তিনেস অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন। এই গোলের সাথে সাথেই আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয় এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার টিকিট নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, ১০ জন নিয়ে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো সুইজারল্যান্ডকে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ