তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত কোনো বিজ্ঞাপন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদন করা হয়েছে কি না, তা ব্যবহারকারীদের জানাতে নতুন সুবিধা চালু করছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গুগলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে এআই ব্যবহারের তথ্য আরও স্বচ্ছভাবে ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে এই নিয়ম চালু থাকলেও এবার সাধারণ বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমান বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অত্যন্ত কম সময়ে ও সাশ্রয়ী খরচে বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারছে। এমনকি কোনো ধরনের বাস্তব আলোকচিত্র ধারণ ছাড়াই কৃত্রিমভাবে পণ্যের বাস্তবধর্মী ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে। তবে এর ফলে যেমন সময় ও উৎপাদন ব্যয় কমছে, তেমনি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিভ্রান্তির ঝুঁকিও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ছবিগুলো বাস্তব নাকি এআই দ্বারা নির্মিত, তা খালি চোখে সাধারণ মানুষের পক্ষে সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গুগলের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বিভ্রান্তিকর ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে কোনো বিজ্ঞাপনে এআই দ্বারা নির্মিত বা ডিজিটাল উপায়ে সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করা হলেই তা সরাসরি নীতিমালা লঙ্ঘন বলে গণ্য হয় না। এই বাস্তবতায় ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং বিজ্ঞাপনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে এআই ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল।
গুগল সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন ফিচারটি তাদের বিদ্যমান ‘মাই অ্যাড সেন্টার’ (My Ad Center) প্যানেলে যুক্ত করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীরা গুগল সার্চ, ইউটিউব এবং গুগল ডিসকভার প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের পাশে থাকা ‘থ্রি ডটস’ বা তথ্যসূচক চিহ্নে ক্লিক করে এই প্যানেলে প্রবেশ করতে পারবেন। বিশ্বের সব অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে এই সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হবে।
বর্তমানে গুগলের ‘মাই অ্যাড সেন্টার’ প্যানেলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন ব্লক বা সেটির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করার সুযোগ পান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনদাতার পরিচয় এবং কেন ওই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনটি তাকে দেখানো হচ্ছে, তাও জানা যায়। নতুন ফিচারটি যুক্ত হওয়ার পর সেখানে ‘হাউ দিস অ্যাড ওয়াজ মেড’ (How this ad was made) নামক একটি নতুন অপশন যুক্ত হবে। এই অপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যে, নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে নাকি এটি তৈরির পর এআই দিয়ে কোনো ধরনের সম্পাদনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনদাতারা যদি গুগলের নিজস্ব জেনারেটিভ এআইভিত্তিক বিজ্ঞাপন তৈরির টুলস ব্যবহার করেন, তবে বিজ্ঞাপনে এই তথ্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যুক্ত হয়ে যাবে। তবে বিজ্ঞাপনটি যদি অন্য কোনো থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি করা হয়, সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে এআই-এর ব্যবহার রয়েছে কি না, তা জানানোর দায়িত্ব থাকবে খোদ বিজ্ঞাপনদাতার ওপর। গুগল এই ক্ষেত্রে নিজ থেকে কোনো তথ্য যাচাই করবে না, বরং বিজ্ঞাপনদাতার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তা ব্যবহারকারীদের প্রদর্শন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুগলের এই পদক্ষেপ ডিজিটাল বিজ্ঞাপন শিল্পে এক ধরনের নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। যেসব দেশে স্থানীয় আইন অনুযায়ী বিজ্ঞাপনে এআই ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক, সেসব দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনে আলাদাভাবে ‘এআই লেবেল’ প্রদর্শন করবে গুগল। এর ফলে প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এই যুগে ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা বজায় রাখা এবং ব্যবহারকারীদের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


