জাতীয় ডেস্ক
স্নাতক (পাস ও সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সব নাগরিকের শান্তি, নিরাপত্তা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সোমবার বরিশালের গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী চার বছরও এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। এই কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর সার্বিক অগ্রগতি ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যেই স্নাতক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে পরিবার ও সমাজ কাঠামো আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করা। নাগরিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বা অন্য কোনো পরিচয় নয়, বরং মানবতাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন ও আস্থাই সরকারের মূল শক্তি। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীতে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে তিনি আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দেন। বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাস, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচি সফল করতে তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।


