জাতীয় ডেস্ক
দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নাগরিক দায়িত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দেশের মালিক দেশের জনগণ, তাই নিজেদের আঙিনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্বও সবার আগে নাগরিকদেরই নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গঠনে সম্মিলিত সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে আয়োজিত এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনমানুষের উদ্যোগে সেখানে একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়, যা পরিবেশ সুরক্ষায় গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পরিবেশ দূষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের পাশের খালে ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্য প্রদর্শন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নদী, নালা ও খাল-বিলে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির ক্ষতি করে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদী ও জলাশয়গুলোর নাব্যতা ধরে রাখা না গেলে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সড়ক ও স্থানীয় বাজারগুলোর অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যত্রতত্র ফেলে রাখা পলিথিন, প্লাস্টিক ব্যাগ ও কাগজ পরিবেশের নান্দনিকতা নষ্ট করার পাশাপাশি মাটির উর্বরতা হ্রাস করছে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর বায়ুদূষণ, কালো ধোঁয়া এবং নাগরিক বর্জ্যের কারণে জনস্বাস্থ্যের যে বিপর্যয় ঘটছে, গ্রামীণ এলাকাকেও যদি একইভাবে দূষিত করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে জনজীবন আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে। দূষণের ফলে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, যার বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের সাধারণ মানুষকে যেকোনো ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক সামগ্রী বা বোতল ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানান। তিনি একটি রূপক উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি পরিবারের চার-পাঁচজন সদস্য যদি সচেতন না হয়ে ঘর অপরিষ্কার রাখেন, তবে একজনের পক্ষে তা পরিষ্কার রাখা অসম্ভব। একইভাবে দেশের ১৮ কোটি মানুষ যদি সচেতন না হয়, তবে এককভাবে সরকারের পক্ষে শতভাগ পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা দূরূহ। তাই নিজস্ব সম্পদ রক্ষায় বাহ্যিক কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান দেশের বনভূমির পরিমাণ বাড়াতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা বরিশালে এ ধরনের উদ্যোগ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে সহায়ক হবে।
উক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ সুরক্ষার এই বার্তাটি মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


