শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার কৌশল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্য নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার কৌশল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

ভারতের অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা কেবলই তাঁর দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে উজ্জীবিত করার একটি কৌশল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আদালতের একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং আইন অনুযায়ী দেশে ফিরলে তাঁকে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার নানা দিক তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী এখন আত্মগোপনে বা পালিয়ে আছেন, তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং জাগ্রত করতেই তিনি বিদেশ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এর বাইরে এই ঘোষণার অন্য কোনো রাজনৈতিক বা বাস্তব ভিত্তি নেই।

শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করে শামা ওবায়েদ বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁর সামনে আইনের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তিনি যদি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করেন, তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে। আইন সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এখানে কোনো প্রকার শিথিলতার সুযোগ নেই।

বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে, তা যথানিয়মে চলছে। এই প্রক্রিয়াটি একটি চলমান বিষয় এবং সরকার আইনগত পথেই অগ্রসর হচ্ছে।

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনি প্রক্রিয়া বা থানায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক নন। ফলে সংশ্লিষ্ট দেশে তিনি কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন বা না করবেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়; এখানে বাংলাদেশ সরকারের কোনো করণীয় বা সম্পৃক্ততা নেই। একজন আসামি কোথায় এবং কীভাবে আত্মসমর্পণ করবেন, তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে তিনি বিদেশে বাংলাদেশের কোনো মিশন বা সরাসরি বাংলাদেশে এসে যেখানেই আত্মসমর্পণ করুন না কেন, আইনি প্রক্রিয়া একই থাকবে। আইন অনুযায়ী তাঁকে সাজার মুখোমুখি হতে হবে এবং কারাগারে যেতে হবে।

বিদেশ থেকে শেখ হাসিনার দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাইরে থেকে কী বক্তব্য দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশ সরকার আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না এবং নেবেও না। যেহেতু দেশের প্রচলিত আইনে তাঁর সাজা ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে, তাই নতুন কোনো বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকারের চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনার ভারতের মাটিতে বসে দেওয়া বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর নজির রয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা প্রতিবাদ জানাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কূটনৈতিক সব বিষয় বা আলোচনার বিবরণী সবসময় বিবৃতির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানানোর প্রয়োজন হয় না। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় হয়ে থাকে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি দেশের বাইরে অবস্থান করে আত্মসমর্পণ করুন বা না করুন, দেশের আইনের চোখে তাঁর বিচার ও সাজার রায় অপরিবর্তিত থাকবে। সরকার আইনি উপায়ে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে তার কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ