জুন মাসে সারাদেশে ৫৩০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬২, আহত ৭৫০

জুন মাসে সারাদেশে ৫৩০ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬২, আহত ৭৫০

জাতীয় ডেস্ক

গত জুন মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোয় দুর্ঘটনার মিছিল দীর্ঘ হয়েছে। এক মাসে সারাদেশে ৫৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত এবং ৭৫০ জন আহত হয়েছেন। দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম এবং যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের কারণে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সর্বশেষ মাসিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংস্থাটির বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে দেশের সব জেলার দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। দেশের সড়ক নিরাপত্তার সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনার প্রবণতা বিশ্লেষণে এই তথ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিআরটিএর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় গত জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এই বিভাগে ১৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪৩ জন নিহত এবং ২৬৪ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং প্রাণহানির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। রাজধানী ও এর আশপাশের জেলাগুলোসহ ঢাকা বিভাগে ১১৫টি দুর্ঘটনায় ১০৩ জন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত হয়েছেন।

দেশের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ৭৯ জন আহত, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত এবং সিলেট বিভাগে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৮২৭টি ছোট-বড় যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে পণ্যবাহী ও গণপরিবহনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১৭১টি ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান এবং ১৫৩টি বাস বা মিনিবাস এসব দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এছাড়া ১৩৮টি মোটরসাইকেল, ৬২টি অটোরিকশা, ৫৫টি পিকআপ, ২৭টি মোটরকার বা জিপ, ২৭টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ২৩টি ভ্যান, ২২টি ইজিবাইক, ১৮টি মাইক্রোবাস, ৭টি অ্যাম্বুলেন্স, ৬টি ট্রাক্টর এবং ১১৮টি অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানির পৃথক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত মাসগুলোর ধারাবাহিকতায় জুনেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। মাসজুড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ১২১ জন চালক ও আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেপরোয়া গতি, হেলমেট ব্যবহারে উদাসীনতা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাই মোটরসাইকেল আরোহীদের বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।

অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৭১ জন, বাস বা মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন এবং অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পিকআপ দুর্ঘটনায় ২৬ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৭ জন, ইজিবাইক ও মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ১২ জন করে, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১১ জন, মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৬ জন, অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৪ জন, ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় ২ জন এবং অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছরই সড়ক দুর্ঘটনার এই ভয়াবহতা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং থ্রি-হুইলার ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সাথে সড়ক ও মহাসড়কের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা এবং ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ