তথ্যপ্রযুক্তি ও বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি টেকসই, আস্থাশীল ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কর কাঠামো সংস্কার এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করাসহ বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সোমবার সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনের এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই তথ্য জানানো হয়। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে বেগবান করতে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কর কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের হাতে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন ও উন্নত ডিজিটাল সেবার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশজুড়ে ডিজিটাল সংযোগের সম্প্রসারণ এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্ট ডিভাইস নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সামগ্রিক প্রযুক্তি শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশকে স্মার্ট ডিভাইস উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রে রূপান্তর করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সাক্ষাৎকালে কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের বিদ্যমান সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়াতে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল করতে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত মত প্রকাশ করেন যে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসবে।
রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হবে।
আলোচনা শেষে উভয়পক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স ও ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, কোরিয়ান দূতাবাসের প্রথম সচিব লি নামসু এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার জাংমিন জং উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত প্রযুক্তি-নির্ভর দেশের সাথে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও উৎপাদন খাতের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


