নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা: দুইজন গ্রেফতার

নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা: দুইজন গ্রেফতার

অপরাধ ডেস্ক

নরসিংদীর সদর উপজেলার পাইকাদি এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) মাধবদী থানা পুলিশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১১ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি গ্রামে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্যাতনের সেই দৃশ্য শিশুটির মা নিজ মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে।

এই মামলায় শিশুটির চাচি লতা বেগমকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া লতা বেগমের স্বামী কাউসার মিয়া এবং শিশুটির বাবা আলমাস মিয়াকেও আসামি করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রিভেনশন অফিসার লিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পর কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগম ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তদন্ত চালায়। সে সময় শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সাময়া আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেছিলেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শিশুটির পা ভাঙেনি এবং চিকিৎসকের প্রয়োজন হওয়ার মতো কোনো আঘাতও সে পায়নি। এমনকি পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে বলেও তারা দাবি করেছিলেন।

তবে সমাজসেবা বিভাগের এমন পদক্ষেপ ও দায়ের করা মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় পরিবারের আপস করার সুযোগ নেই। শিশুটির ওপর নির্যাতন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং লতা বেগমকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। একইসঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থা এবং তার বর্তমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।

এ ঘটনাটি সমাজে শিশু নিরাপত্তা ও পারিবারিকভাবে সৃষ্ট বিরোধের জেরে নিষ্পাপ শিশুর ওপর সহিংসতা রোধে কঠোর সতর্কতার বার্তা প্রদান করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়, সেটিই এখন সচেতন মহলের দাবি।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ