আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টানা পাঁচ দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর সাত সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ৬৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৬০ জন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় দেশটির বমপুর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ১৩টি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ৩৮৮তম ব্রিগেডের সামরিক স্থাপনা, যার মধ্যে অতিথিশালা, প্রহরীদের চৌকি এবং সেনাদের আবাসন এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই হামলায় সামরিক বাহিনীর সাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা, তবে ইরানের কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ অভিহিত করে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, উপযুক্ত সময়ে এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দেওয়া হবে।
সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ওপর হামলার ঘটনাও বড় আকার ধারণ করেছে। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানে চলমান এই ধারাবাহিক হামলায় গত কয়েক দিনে ৩০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছে। দক্ষিণ ইরানকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর আহতদের সর্বশেষ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, টানা কয়েক দিনের হামলায় এ পর্যন্ত ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ পর্যন্ত আহতদের মধ্যে ২২২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চলছে।
ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা পাঁচ দিন ধরে এই হামলা পরিচালনার পাশাপাশি দক্ষিণ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন বাহিনী নতুন করে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবরোপ এবং সামরিক হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বন্দরগুলোতে অবরোধের ফলে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে, যা ইরানের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় এই ধারাবাহিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্যকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সামরিক জবাব দেওয়ার ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই সংঘাতের ভয়াবহতা এবং এর সম্ভাব্য পরিণতির দিকে গভীর নজর রাখছে।


