শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রতিনিধি দল: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক

শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রতিনিধি দল: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক

শিক্ষা ডেস্ক

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে সুনির্দিষ্ট ছয় দফা দাবিতে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও চলমান পরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে তারা সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে সমবেত হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরবর্তীতে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতিনিধি দলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসার অনুমতি দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মূল লক্ষ্য হলো চলমান পরীক্ষার জটিল পরিস্থিতি নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে যারা অংশগ্রহণ করতে পারেনি বা সন্তুষ্ট নয়, তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয় দফায় তারা দাবি জানিয়েছেন, যারা পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর এবং পুনঃপরীক্ষার নম্বরের মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ, সেটিকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।

তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রে থাকা ত্রুটির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, প্রশ্নপত্রে যেসব ভুল ছিল, তার জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদান করতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ভুলের মাশুল দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চতুর্থ দাবিটি মানসিক প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত; শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও মানসিক চাপ বিবেচনায় রেখে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের আগে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পঞ্চম দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তাদের অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চলতি বছর প্রশ্নপত্রের কাঠামোর এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এই বিষয়টি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নিয়ে নম্বর প্রদানের দাবি জানিয়েছে তারা। ষষ্ঠ ও শেষ দাবিতে পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপালনকারী শিক্ষকদের আচরণের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। ‘সচেতন গার্ড’-এর নাম ব্যবহার করে কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যে কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ করছেন, তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ ধরনের আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মুখে পড়ছে, যা মেধা বিকাশে অন্তরায়।

সচিবালয়ে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার চান এবং তাদের এই দাবিগুলো যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের জন্য শিক্ষা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেছেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা দাবিগুলো পর্যালোচনা করছেন এবং দ্রুত এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার মান ও পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে বর্তমান অস্থিরতা নিরসন হয়ে একটি যৌক্তিক সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলো মূলত একাডেমিক স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দেয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতি ও পরীক্ষার নিয়মকানুন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এই দাবিসমূহ বিশ্লেষণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা জানতে এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ