তথ্য ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করে জনগণের পাশে থাকাকে বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘অ্যাসিড টেস্ট’ বা চূড়ান্ত পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগের সময় ভুল তথ্য বা গুজবের বিস্তার রোধ করে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
গতকাল সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সব জেলা তথ্য কর্মকর্তার (ডিআইও) সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বন্যা পরিস্থিতি ও এ সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সভায় মন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনাকে মানুষের বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপাদান ‘অক্সিজেন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “বাতাস দূষিত হলে বা বাতাস না থাকলে যেমন জীবন সংকটাপন্ন হয়, তেমনি অপতথ্য বা ভুল তথ্য সমাজে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো এই তথ্যপ্রবাহকে কলুষমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য রাখা।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি সব জেলা তথ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময়ে সরকারি তৎপরতার সঠিক চিত্র দ্রুততার সঙ্গে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিনের কাজের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।
ব্রিফিংয়ে বিশেষভাবে বন্যাকবলিত সাতটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের খবরাখবর সরাসরি শোনেন মন্ত্রী। এসব অঞ্চলের জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় তিনি পরিস্থিতির সার্বিক দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তথ্যমন্ত্রী এই সাতটি বন্যাকবলিত জেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে অবিলম্বে একটি ‘বিশেষ ইমার্জেন্সি টিম’ গঠনের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের (ডিএমসি) মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন। এই টিম ২৪ ঘণ্টা সদর দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থেকে কাজ করবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের ধরন মূলত দৃশ্যমান বা অবকাঠামোগত হলেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো ডিজিটাল ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি বজায় রাখা এবং আতঙ্ক নিরসন করা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় বন্যাকবলিত এলাকাসমূহে সরকারি ত্রাণ তৎপরতা এবং সচেতনতামূলক প্রচারণায় তথ্য কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের কেন্দ্রীয় মনিটরিং এবং ‘বিশেষ ইমার্জেন্সি টিম’ গঠন স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অপতথ্য রোধের এই উদ্যোগ জনমনে সরকারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


