ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরছেন আরিফিন শুভ: বিপরীতে কেয়া পায়েল

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরছেন আরিফিন শুভ: বিপরীতে কেয়া পায়েল

বিনোদন ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের নির্দেশনায় ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ শিরোনামের একটি অরিজিনাল ফিল্মে প্রথমবারের মতো তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার এই চলচ্চিত্রটি সমকালীন জীবনের বাস্তবতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে।

বর্তমানে ওটিটি মাধ্যমের জনপ্রিয়তা ও প্রসারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশীয় নির্মাতারা বিভিন্ন ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে কাজ করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ চলচ্চিত্রটিতে সমকালীন জীবনের নানা সংকট, পারিবারিক বন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভার্চুয়াল দুনিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবকে মূল উপজীব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আধুনিক সময়ের সম্পর্ক, আবেগ এবং নতুন প্রজন্মের মানসিক বাস্তবতাকে এই ফিল্মে ভিন্ন আঙ্গিকে চিত্রায়িত করা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে আনিস চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। সাধারণত অ্যাকশনধর্মী কিংবা দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা এবারের চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, চরিত্রটি একজন স্বাধীনচেতা, আত্মনির্ভরশীল এবং মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল যুবকের। নিজের চরিত্র সম্পর্কে আরিফিন শুভ জানান, এটি গতানুগতিক শক্তিশালী পুরুষতান্ত্রিক চরিত্রের চেয়ে আলাদা। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তার পরিবার ও প্রিয় মানুষেরা, তেমন একটি মানসিকতার প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, দর্শক তাকে নতুন একটি আঙ্গিকে দেখার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে, অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। উচ্চবিত্ত শহুরে জীবনের পটভূমিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর চারপাশের জগতটি আবর্তিত হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চুয়াল দুনিয়ার মোহ এবং বিভিন্ন সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসিকে কেন্দ্র করে। আনিস ও অনামিকা—এই দুই বিপরীতমুখী চরিত্রের মানুষ যখন একে অপরের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের ব্যক্তিগত জগত এবং মূল্যবোধের যে সংঘাত ও বিবর্তন ঘটে, তা-ই চলচ্চিত্রটির মূল আকর্ষণ। নিজের চরিত্রের গভীরতা সম্পর্কে কেয়া পায়েল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই চরিত্রে অভিনয়ের বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে।

পরিচালক জাহিদ প্রীতম জানান, গল্পটি বর্তমান সময়ের মানুষের জীবনযাত্রার ছায়া অবলম্বনে তৈরি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অত্যধিক প্রভাবের ফলে ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্কের যে পরিবর্তন আসছে, তা এই ফিল্মের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং এর মধ্য দিয়ে মানবিক বিকাশের গল্পটিই দর্শক দেখতে পাবেন।

সূত্র জানিয়েছে, নির্মাণ কাজ শেষে চলচ্চিত্রটি বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। খুব শিগগিরই দেশের একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি মুক্তি দেওয়া হবে। চলচ্চিত্রটি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বেশ আশাবাদী, কারণ বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ধরণের রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার কাজগুলো বেশ সমাদৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বাজারে এই নতুন জুটির রসায়ন এবং সমসাময়িক গল্পের উপস্থাপন দর্শকদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ