পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ডেস্ক
ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রাজধানী ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে আয়োজিত পরিবেশ দূষণ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটাগুলোকে চিহ্নিত করেন। তিনি প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ইট উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে কীভাবে টেকসই ইট তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকার চিত্র নিয়ে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে হর্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর সড়কগুলোতে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর পরিবেশগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টি সভায় প্রাধান্য পায়। ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নিঃসরণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন ঢাকা শহর থেকে দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান। এ ধরনের যানবাহন শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, বরং যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে সভায় অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেমের সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবস্থা চালু হলে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি যানজটের কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের অন্যতম। ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে বায়ু ও শব্দদূষণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বায়ু ও শব্দদূষণ রোধে গৃহীত এই কার্যক্রমগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা হবে। টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে সরকার পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথেই অগ্রসর হবে বলে সভায় জানানো হয়।


