জাতীয় রাজনীতি ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৫০ দিন পূর্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের কথা জানিয়েছে সরকার। আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন সরকারের গত পাঁচ মাসের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মাহদী আমিন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরীক্ষা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মূলত ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়সাশ্রয়ী পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সরকারের মুখপাত্র আরও জানান, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে বিপর্যস্ত রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং লুণ্ঠিত অর্থনৈতিক খাতগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর। তার মতে, জনগণের আস্থা ও গঠনমূলক মতামতই সরকারের প্রতিটি কাজের মূল প্রেরণা। গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনার প্রয়াস চালিয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে ড. মাহদী আমিন জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে শিক্ষার্থীরাসহ যে অসংখ্য মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সেই আত্মত্যাগই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ত্বরান্বিত করেছে। সরকার তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যাত্রা শুরু করে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
সরকারের এই পাঁচ মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। তবে দায়িত্ব গ্রহণের স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে সরকার এখন জনআকাঙ্ক্ষাকেই প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।


