রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন

রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন

সাংস্কৃতিক ডেস্ক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁর সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজশাহীতে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীত পাশে অবস্থিত প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীসমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর জাতীয় কবির রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন মন্ত্রী। পরে তিনি ‘নজরুল ভিলেজ’ চত্বরে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত কবি নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার। রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগটি নজরুল গবেষক ও সাহিত্য অনুরাগীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে এটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বেগবান করবে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘নজরুল ভিলেজ’-এর মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকছে ‘নজরুল মঞ্চ’ এবং ‘নজরুল কর্নার’। প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে ২৫ লাখ টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী মাসে নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো যাতে নবনির্মিত এই মঞ্চে আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ‘নজরুল ভিলেজ’ হবে একটি উন্মুক্ত স্থান। এখানে কোনো ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যেখানে যে-কোনো সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী বা ব্যক্তি নজরুলের নাটক, পালাগান ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার চর্চা করতে পারবেন।

নজরুল চর্চাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সারা বছর জুড়েই এখানে নিয়মিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগটি রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি জাতীয় কবির আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে আরও নিবিড়ভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগটি মূলত নজরুলের সাহিত্য, কবিতা ও সংগীতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীতে একটি সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে উঠবে বলে আয়োজকরা মনে করছেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ