নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে উঠেছে। শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস কিংবা ডিম- প্রায় সবকিছুর দামই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। দু-একটি সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকায়। এক মাস ধরে ডিমের বাজারেও নেই কোনো স্বস্তি। একই সঙ্গে বেড়েছে মাছ ও মুরগির দামও। ফলে চরম অস্বস্তি ও চাপের মধ্যে পড়েছে দরিদ্র মানুষ, পাশাপাশি হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও।
বাজার করতে এসে ক্রেতাদের অনেককেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সীমিত আয়ের মানুষজন বলছেন, প্রতিদিনের বাজার খরচ সামাল দিতে গিয়ে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বাড়তি দামের জন্য শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করার সুযোগ নেই। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ ব্যয়ের চাপের কারণেই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে যে দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, তার চেয়ে সামান্য লাভ রেখেই তারা বিক্রি করছেন। এ ছাড়া জ্বালানি খরচ ও পরিবহন সংকটের প্রভাবও বাজারে পড়েছে বলে দাবি তাদের। গতকাল মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, আর ঝিঙা, করলা, চিচিঙ্গা, ধুন্ধল, বরবটি, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ এবং কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ পিসপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। টম্যাটো ৮০-১০০, পেঁপে ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০ ও সোনালি ৩৪০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ৫০-১ হাজার ১০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিম ডজনে ১৫০ ও সাদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হাঁসের ডিম ডজন ২০০-২২০, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। রুই ও কাতলা মাছ কেজিপ্রতি ৩২০-৩৮০, পাঙাশ ১৮০-২০০ এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ৬৫০-৭৫০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩০০-৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চিকন মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১৬০-১৭০ এবং মোটা মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মুগডাল ১৪০, ছোট মুগডাল ১৭০, খেসারি ডাল ১০০, বুটের ডাল ১১৫ এবং মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৫-৮৮ ও রশিদ মিনিকেটের দাম ৭৫-৮০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেল বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়।


