এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে আল নাসরের পরাজয় ও রোনালদোর পুরস্কার বিতরণী বর্জন

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে আল নাসরের পরাজয় ও রোনালদোর পুরস্কার বিতরণী বর্জন

খেলাধুলা ডেস্ক

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে জাপানের ক্লাব গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধে করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ম্যাচের বাকি সময় জুড়েই সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় আল নাসর, তবে গাম্বা ওসাকার রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। এই পরাজয়ের পর রানার্স-আপ দলের জন্য আয়োজিত আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অনুপস্থিতি ফুটবল বিশ্বে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আল নাসরের ফুটবলাররা যখন রানার্স-আপ মেডেল নিতে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে দলের অধিনায়ক রোনালদোকে দেখা যায়নি। সাধারণত দলের অধিনায়ক হিসেবে এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও, তার অনুপস্থিতিতে কোচ জর্জ জেসুস দলের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন। রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক আনুষ্ঠানিকতায় একজন শীর্ষ তারকার এমন অনুপস্থিতি ফুটবল অঙ্গনে বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আল নাসর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রোনালদোর এই অনুপস্থিতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ম্যাচ শেষের ঠিক পরপরই মাঠের কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ৩৯ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড মাঠের ভেতরে অত্যন্ত বিষণ্ণ ও বিপর্যস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ফাইনাল হারের তীব্র মানসিক ধাক্কা এবং হতাশা থেকেই তিনি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

২০২৩ সালের শুরুতে সৌদি আরবের ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এশীয় অঞ্চলের একটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ছিল রোনালদোর। আল নাসরের জার্সিতে ঘরোয়া পর্যায়ে কিছু সাফল্য পেলেও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই মঞ্চে ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এবারও অপূর্ণই থেকে গেল। গাম্বা ওসাকার বিরুদ্ধে এই পরাজয় আল নাসরের সামগ্রিক মৌসুমের ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যেখানে এশিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার লড়াইয়ে জেতার জন্য ক্লাবটি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিল।

পেশাদার ফুটবলে যেকোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে রানার্স-আপ মেডেল গ্রহণ করাকে স্পোর্টসম্যানশিপ বা খেলোয়াড়সুলভ আচরণের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বড় বড় তারকাদের মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানানো বা মেডেল খুলেই তাৎক্ষণিক মাঠ ছাড়ার নজির রয়েছে। তবে রোনালদোর মতো বিশ্বমানের একজন আইকনের কাছ থেকে এমন আচরণ এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) শৃঙ্খলা কমিটি কীভাবে দেখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্লাব বা এএফসি এই আচরণের জন্য কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা ব্যাখ্যা তলব করবে কিনা, তা আগামী দিনগুলোতে পরিষ্কার হবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ