আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের এই নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশটির কোনো শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি, ব্যবহার বা পরিচালনা করতে পারবে না।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের তৈরি করা অ্যাকাউন্টগুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে। নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১২ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এই আইন অমান্য করলে আমিরাতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ বা ব্লক করে দেওয়া হতে পারে।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কম বয়সী ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল ফিচারগুলো ব্যবহারের সুযোগ হারাবে। তারা কোনো প্ল্যাটফর্মে বার্তা আদান-প্রদান, পোস্ট, মন্তব্য ও শেয়ার করতে পারবে না। একই সাথে কোনো পাবলিক গ্রুপ, ওপেন চ্যানেল কিংবা বড় কোনো ইন্টারেক্টিভ স্পেসে যুক্ত হওয়ার সুযোগও তাদের থাকবে না।
আমিরাতের গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোকে এই নিয়ম বাস্তবায়নে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্ল্যাটফর্ম নির্দেশনা অমান্য করলে সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা পাঠানো, আংশিক বা পুরোপুরি ব্লক করা কিংবা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলো শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিশুদের স্ক্রিনটাইম হ্রাসের পাশাপাশি সাইবার বুলিং ও আপত্তিকর কনটেন্টের নেতিবাচক প্রভাব থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবহারকারীদের সঠিক বয়স যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।


