মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর। ৬ দিনের এই দ্বিপক্ষীয় সফরে তিনি ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন অবস্থান করবেন। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই সফরকে ঢাকা, কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের প্রথম অংশে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশীয় শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ ও সুশৃঙ্খল কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সফরের দ্বিতীয় অংশে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনের বেইজিং পৌঁছাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক, কারিগরি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি যৌথ অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি বিশেষ প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃষি ও বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য এই দূরপ্রাচ্য সফরটি অত্যন্ত কৌশলগত। মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার ও জ্বালানি এবং চীনের সঙ্গে বৃহৎ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে এই সফর দৃশ্যমান অগ্রগতি আনবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ