অপরাধ ডেস্ক
মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের নামে ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। আদালতে দুদকের পক্ষে রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিনের প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুদকের অনুসন্ধান ও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের লাইসেন্স বা এজেন্ট হিসেবে নিয়োজিত হন। মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের জন্য সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা ধার্য থাকলেও, আসামিরা কর্মীপ্রতি কয়েক গুণ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। এভাবে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কাছ থেকে অবৈধভাবে সর্বমোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সংগৃহীত এই অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর, রূপান্তর ও ছদ্মাবৃত্তকরণের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে, যা দণ্ডবিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্সধারী কিছু এজেন্সির সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘ সময় ধরে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে দেশটিতে গিয়ে বহু বাংলাদেশি কর্মী কাজ ও বেতন না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের পেছনের মূল চক্রকে চিহ্নিত করতে এবং অবৈধ অর্থের উৎস সন্ধানে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছে দুদক। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


