রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বাসাবো এলাকায় কুকুরের তাড়া খেয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে এক চালক নিহত হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত চালকের নাম মোহাম্মদ জহির (৩২)। তিনি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার বাসিন্দা ইব্রাহিমের ছেলে। ঢাকার খিলগাঁও ও বাসাবো সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে তিনি অটোরিকশা চালাতেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসাবো এলাকায় জহির অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় ৩-৪টি কুকুর তাকে তাড়া করে। কুকুরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি দ্রুত গতিতে রিকশা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তির নির্দেশ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনভর লড়ার পর শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অটোরিকশা চালকের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত গতি সাম্প্রতিক সময়ে পথচারী ও চালকদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রধান ও উপ-সড়কগুলোতে কুকুরের দলবদ্ধ অবস্থান এবং অটোরিকশার যান্ত্রিক দুর্বলতার কারণে প্রায়শই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। ঢাকার নগর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢাকার সড়কগুলোতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলের বিষয়ে আরও কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


