ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আজ সোমবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতে পারেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এই দল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে নানামুখী আলোচনা চলছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র এবং তরুণ উইঙ্গার এস্তেভাওর সাম্প্রতিক ইনজুরি।
দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমারের দলে ফেরার সম্ভাবনা সাম্প্রতিক সময়ে জোরালো হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর গুরুতর এসিএল (অ্যান্টিরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেননি। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ মঞ্চে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে অভিজ্ঞতার দিক থেকে সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোচ আনচেলত্তি নেইমারের বর্তমান অবস্থার ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেইমার চোট কাটিয়ে নিয়মিত মাঠে ফিরছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের চেনা ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন। ফলে চূড়ান্ত স্কোয়াডে তাঁর অন্তর্ভুক্তি কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।
নেইমারের ফেরার গুঞ্জনের মধ্যেই ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওর ইনজুরি। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই তরুণ তারকার আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিকল্পনায় এবং আক্রমণভাগে ইতিমধ্যেই এস্তেভাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। নির্ভরযোগ্য একজন তরুণের এই আকস্মিক অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্য রক্ষায় কোচিং স্টাফদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এস্তেভাওর ছিটকে যাওয়া এবং নেইমারের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের কৌশলগত বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। একদিকে যেমন এস্তেভাওর গতি ও তরুণ উদ্দীপনা হারানো দলের জন্য বড় ক্ষতি, অন্যদিকে নেইমারের মতো অভিজ্ঞ ও ম্যাচের গতিপথ একাই বদলে দিতে সক্ষম খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দলের মানসিক শক্তি ও কৌশলগত গভীরতা বৃদ্ধি করবে। আজ চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে আনচেলত্তি তাঁর আক্রমণভাগের শূন্যতা পূরণে এবং অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষায় কী ধরনের চূড়ান্ত কৌশল গ্রহণ করছেন।


