মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারে বড় পতন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারে বড় পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরকারি বন্ডের মুনাফার হার (ইল্ড) একলাফে অনেক বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই আকস্মিক অস্থিরতার কারণে সোমবার লেনদেন শুরুর পরপরই এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে।

আবুধাবি সূত্রের খবর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। যদিও দেশটির পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে পারমাণবিক নিরাপত্তার কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবও তাদের আকাশসীমায় তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ তেহরান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করায় ওই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট সরবরাহকৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পথটি অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী জুনের শেষ নাগাদ এই সংকট নিরসন না হলে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি যদি চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৭ সাল নাগাদ অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে ঠেলে দেবে। এই জরুরি পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আলোচনার জন্য গ্রুপ অব সেভেনের (জি-৭) অর্থমন্ত্রীরা সোমবার প্যারিসে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।

জ্বালানি খাতের এই বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারেও। মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪.৬৩১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের সরকারি বন্ডের সুদের হার ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, উদ্ভূত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই ধাক্কায় জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই’ ১.১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্টক সূচক ০.১ শতাংশ কমে গেছে। এশিয়ার বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ০.৬ শতাংশ, নাসডাক ফিউচার ০.৮ শতাংশ এবং ইউরোপের ইউরোস্টক্স ফিউচার ১.০ শতাংশ পতনের মুখে পড়েছে।

বাজারের এই মন্দাভাবের মধ্যেই চলতি সপ্তাহে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এনভিডিয়া’ তাদের ত্রৈমাসিক আয়ের খতিয়ান প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবণতা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালমার্ট’-এর আর্থিক প্রতিবেদনও চলতি সপ্তাহে প্রকাশের কথা রয়েছে, যা থেকে বোঝা যাবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ