আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটি ‘রুইয়াত-ই-হিলাল’ আগামী ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। রবিবার (১৭ মে) রাতে করাচিতে কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল খাবির আজাদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের আকাশ পরিষ্কার ছিল এবং সিন্ধু, পাঞ্জাবসহ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। করাচির মূল বৈঠকের পাশাপাশি একই সময়ে ইসলামাবাদ, লাহোর, কোয়েটা ও পেশোয়ারেও জোনাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সব কমিটির প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, হিজরি ১৪৪৭ সনের ১ জিলহজ ১৮ মে (সোমবার) থেকে গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশটিতে ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তানের মহাকাশ ও উচ্চ বায়ুমণ্ডল গবেষণা কমিশন (সুপারকো)-এর পূর্ববর্তী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস সঠিক প্রমাণিত হলো। সুপারকো এর আগে জানিয়েছিল, ১৭ মে নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদ দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বৈজ্ঞানিক হিসাব ও ধর্মীয় সাক্ষ্য একই হওয়ায় এবার কোনো বিতর্ক ছাড়াই উৎসবের তারিখ নির্ধারিত হলো।
ভৌগোলিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অবস্থানের কারণে সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পাকিস্তানে একই দিনে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে থাকে। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবের তারিখ নির্ধারিত হয়, যা মূলত ত্যাগের মহিমা ও হজ পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঈদের সরকারি ছুটি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের জন্য আজ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত পাকিস্তানের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হওয়ার দীর্ঘদিনের আবহমান প্রবণতা থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করছে।


