কারিগরি ও নারী শিক্ষার প্রসারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর

কারিগরি ও নারী শিক্ষার প্রসারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কারিগরি ও নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের আরও সচেতন ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

শুক্রবার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধুনিক, যুগোপযোগী এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোর সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে বর্তমান যুগকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর ও কাঠামোগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

নারী শিক্ষার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই নারীদের মূলধারার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত না করে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলোর শতভাগ সুফল নিশ্চিত করতে হলে পারিবারিক পর্যায় থেকে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

আধুনিক যুগে শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ও উদ্ভাবনী শিক্ষার দিকে ধাবিত করার আহ্বান জানান বক্তারা। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ ঘটলে একদিকে যেমন বেকারত্ব হ্রাস পাবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। একই সাথে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলে তা বাল্যবিয়ে রোধ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের মূল অধিবেশন শেষে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিগত প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করেন এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে এই মেধার সঠিক প্রতিফলনের তাগিদ দেন। সভা শেষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব অনুধাবন করে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ