রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করার সর্বোত্তম উপায় হলো তাঁর জীবনের আদর্শ, কর্মপদ্ধতি ও বিশ্বাসকে অনুসরণ করা। জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই দেশকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবনাদর্শ ছিল ন্যায়ের পক্ষে, কর্মপদ্ধতি ছিল উন্নয়নমুখী এবং তাঁর মূল বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। দেশের এক সংকটময় সময়ে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে দেশে মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছিল। সেই শাসনতান্ত্রিক ও সামাজিক সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পটভূমিতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের সংক্ষিপ্ত শাসনামলে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমান তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছিলেন। বিশেষ করে কৃষি, শ্রম ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী অবদান রাখে। তিনি দেশের বিশাল জনশক্তিকে সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং প্রথমবারের মতো বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করে জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করেন। একই সঙ্গে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নেন।
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে মেহনতি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তিনি প্রাসাদকেন্দ্রিক ক্ষমতার রাজনীতি পরিহার করে সরাসরি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দেশের আপামর মানুষের প্রতি এই ভালোবাসার কারণেই জনগণ তাঁকে ‘রাখাল রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও তিনি নতুন ধারা সংযোজন করেন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেন।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. মঈন খান বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজকে জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমাত্রিক অর্জনের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে এবং সেখান থেকে দেশপ্রেমের শিক্ষা নিতে হবে। বক্তৃতায় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার ও বাংলাদেশকে বিশ্বে আরও সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।


