অপরাধ ডেস্ক
দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটির বিচার চলছে এবং বাকি পাঁচটি তদন্তাধীন।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ইন্টারপোলের সহায়তায় গত ১২ জুন দুবাই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে থাকা ছয়টি মামলার মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং সেটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আরও প্রায় ৭৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত বছর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরবর্তীতে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য মেলায় ধারাবাহিক মামলা করা হয়। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে তাঁর পরিবারের নামে থাকা একাধিক ফ্ল্যাট, শত শত বিঘা জমি, করপোরেট শেয়ার, সঞ্চয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও ক্রোক করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের পর বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি বা কূটনৈতিক চ্যানেলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদ এর আগে র্যাবের মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তাঁর এই গ্রেপ্তার ও ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দেশের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


