‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, আমরা বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, আমরা বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বরং নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘বেটার বাংলাদেশ’ বা সমৃদ্ধতর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিগত সময়ে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শোনা যেত, বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সার্বিক ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়ে জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন।

শনিবার রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ভাবনার পাশাপাশি পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুনির্দিষ্ট কিছু নাগরিক সমস্যা এবং এর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শহরটিকে একটি বিশ্বমানের ‘পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য কেবল ‘বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সৈকত’—এই সাইনবোর্ড প্রদর্শন করাই যথেষ্ট নয়, বরং এই সুনামের সঙ্গে সংগতি রেখে শহরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কক্সবাজারের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব সবার। বিশেষ করে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করা এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের উন্নয়ন ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনের সময় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, গত ১৭ বছরে যে মৌলিক উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল, তা করা হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের সামনে কাজের বিশাল পাহাড় জমে গেছে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে এই জমে থাকা কাজগুলো দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উন্নয়ন অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তর করার কাজকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, এই অঞ্চলের বিশাল সমুদ্রসম্পদ বা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ আধুনিক সামুদ্রিক বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

উক্ত সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকগণ। তাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, মীর মো. হেলাল, শরীফুল আলম, মীর শাহে আলমসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সফরসূচি শেষে গভীর রাতে তিনি বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ