জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগামী দুই বছরের মধ্যে গাবতলী বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। একই সাথে ঢাকার অভ্যন্তরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা আন্তঃজেলা দূরপাল্লার বাসের কাউন্টার ও স্ট্যান্ডগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকার বর্তমান বাস টার্মিনালগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো দূরপাল্লার আধুনিক পরিবহনের উপযোগী নয়। বিশেষ করে উন্নত মানের এসি বাসগুলোর জন্য নির্ধারিত টার্মিনালগুলোতে পর্যাপ্ত যাত্রীসেবা, উন্নত শৌচাগার বা মানসম্মত পরিবেশের অভাব রয়েছে। এই সংকটের কারণে পরিবহন কোম্পানিগুলো বাধ্য হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাউন্টার পরিচালনা করছে।
নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এবং যানজট নিরসনে আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর পরিবেশগত ও কাঠামোগত কিছু সংস্কার করা হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই বছরের মধ্যে বড় টার্মিনাল দুটিকে ঢাকার উপকণ্ঠে সরিয়ে নেওয়া হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন টার্মিনালগুলো চালু হওয়ার পর বেসরকারি বিভিন্ন উন্নত মানের দূরপাল্লার বাস কলাবাগানসহ রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পয়েন্টে আর কাউন্টার স্থাপন বা যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে না। সব ধরনের দূরপাল্লার বাসকে নির্ধারিত টার্মিনাল থেকেই যাত্রা শুরু ও শেষ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ঢাকার প্রবেশমুখ ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।


