আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে জার্মানি। পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে জাহাজ দুটিকে লোহিত সাগরের দিকে পাঠানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, মাইন সুইপার ‘ফুলদা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ ইতিমধ্যে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কোনো অভিযান শুরু হলে যেন সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে সাড়া দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছাতে জার্মান বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে জার্মানি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও সেনা বা জাহাজ মোতায়েনের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর আগে আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং জার্মান পার্লামেন্টের (বুন্দেসটাগ) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এই অভিযানের পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে একমত হতে হবে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট জারি করা হলে জার্মান সরকার পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য আবেদন জানাবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হলো।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এর বিপরীতে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন এই চুক্তিটিকে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, ইরান চুক্তির শর্ত ও প্রতিশ্রুতি কতটুকু রক্ষা করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই সুবিধার প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। তবে চুক্তির বেশ কয়েকটি কারিগরি ও রাজনৈতিক বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, যা পরবর্তী আলোচনা এবং চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।


