অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
সারাদেশে বর্তমানে ২ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ হচ্ছে। উৎপাদন সম্প্রসারণে তামাক চাষের জমিসহ দেশের অপ্রচলিত এলাকাগুলোকে গম চাষের আওতায় আনার পাশাপাশি হেক্টরপ্রতি ৬ টন বা তার বেশি ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে গম চাষের পরিধি বাড়াতে সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে গম উৎপাদন প্রবণ এলাকায় নতুন ও উচ্চ ফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ এবং প্রচলিত ধানভিত্তিক ফসল ধারায় গম অন্তর্ভুক্তকরণের কাজ চলছে। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের হালকা বুনটের মাটিতে অধিক লাভজনক চার ফসলভিত্তিক চাষাবাদ জনপ্রিয় করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও গমের আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগতভাবে বৈচিত্র্যময় এলাকাগুলোকে গম চাষের আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকা, সিলেট অঞ্চলের পতিত জমি, নদীর চরাঞ্চল, বরেন্দ্র এলাকা, পাহাড়ি সমতল ভূমি এবং তামাক চাষের জমিসহ দেশের অপ্রচলিত এলাকাগুলোতে গমের আবাদ সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হেক্টরপ্রতি ৬ টন বা তার বেশি ফলন দিতে সক্ষম এমন উচ্চ ফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন ও মাঠপর্যায়ে তার সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত গমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার তদারকির উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছর সরকারি তহবিল থেকে প্রণোদনার মাধ্যমে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সদ্য সমাপ্ত ২০ Rosen-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির অধীনে প্রতি বিঘা জমির জন্য একজন কৃষককে ২০ কেজি গমের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি (ডায়ামোনিয়াম ফসফেট) এবং ১০ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে লবণাক্ত ও চরাঞ্চলের মতো পতিত জমি গম চাষের আওতায় আনা সম্ভব হলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের প্রত্যক্ষ প্রণোদনা মাঠপর্যায়ে ধরে রাখতে পারলে বাজারে গমের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়েও ভূমিকা রাখবে।


