অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে দুই বছর সময় প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে দুই বছর সময় প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত বা ‘পারফেক্ট’ বলা যাবে না। তবে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক বাজেট ডায়ালগে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিগত সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প তৈরি করেছিল। বর্তমান সরকার যাচাই-বাছাই করে এর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে বাতিল করেছে। অনেক প্রকল্পের কাজ ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ শেষ হলেও সেগুলো প্রকৃতপক্ষে দেশের কোনো অর্থনৈতিক কল্যাণে আসছে না। অপচয় ও অনিয়ম রোধে প্রকল্প পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

দেশের রাজস্ব খাত সংস্কার ও করের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের কর প্রদানের সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে হবে। অল্প টাকা দিয়ে হলেও দেশের মানুষকে ট্যাক্স নেটের (করের আওতা) মধ্যে আসতে হবে। তবে কর দেওয়ার প্রক্রিয়াটি যেন সাধারণ মানুষের জন্য ভীতি বা হয়রানির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

দেশের ব্যাংকিং খাত এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর উচ্চ সুদের হারের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংকগুলো থেকে ১১ থেকে ১৩ শতাংশ উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বেসরকারি খাতের পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। সরকারের জন্যও এই উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাই সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনবে, যাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সচল থাকে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে ব্যাপক রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একটি প্রচলিত ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, যারা ক্ষমতার রাজনীতি করবে কেবল তারাই রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবে। বর্তমান সরকার এই সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য ব্যক্তিদেরই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ