বিএফআরআইয়ের ৪৬তম পরিচালনা পর্ষদের সভা: মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার তাগিদ

বিএফআরআইয়ের ৪৬তম পরিচালনা পর্ষদের সভা: মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার তাগিদ

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বোর্ড অব গভর্নরস-এর ৪৬তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২১ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় দেশের মৎস্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বোর্ড অব গভর্নরস-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

বৈঠকে মৎস্য গবেষণা কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের তাগিদ দেওয়া হয়। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ও সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিপন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্য চাষিদের দোরগোড়ায় আধুনিক বৈজ্ঞানিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়। উপস্থিত সদস্যরা গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বোর্ড অব গভর্নরস-এর কো-চেয়ারম্যান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ ছাড়া নীতিনির্ধারণী এই সভায় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক এবং নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী।

প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করতে সভায় অংশ নেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠানের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাহানা। প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণা খাতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, বিএফআরআই’র মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র এবং পরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো মৎস্য খাত। বিএফআরআই-এর এই নীতিনির্ধারণী সভা থেকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে তা ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সভা শেষে বোর্ডের পক্ষ থেকে দেশের মৎস্য খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও গবেষণা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সকল অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ