আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক কমপ্লেক্সে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২১ জুন (রবিবার) সকালে মূল আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর আলোচনার পটভূমি হিসেবে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এবারের সংবেদনশীল এই কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিবালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী আলী বাঘেরি, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি, উপ-তেলমন্ত্রী ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির সিইও হামিদ বোভার্দ, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই আলোচনা এক থেকে দুই দিন স্থায়ী হতে পারে। আলোচনার মূল বিষয়সূচির মধ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক ফাইলের বর্তমান পরিস্থিতি। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করতে বার্গেনস্টককে একটি নিরাপদ, গোপনীয় ও নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত তালিকা বা সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের বার্ন প্রশাসন।
মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলোও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি বার্গেনস্টকে সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, তেহরানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি আলোচনায় প্রবেশ না করে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনা বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মূল বিধানগুলো বাস্তবায়নের পর প্রাপ্ত যাচাইকৃত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত চাপ শিথিল করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, লেবাননে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসন এই আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পেয়েছে।


