নাটোরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নাটোরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

অপরাধ ডেস্ক

নাটোর সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গত মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তকে আটক করে।

আটককৃত ব্যক্তির নাম শরিফুল (৪৫)। তিনি স্থানীয় একটি ফুচকার দোকানের কর্মচারী বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটি তার প্রতিবেশী এক নানির সঙ্গে বাড়ির পাশের মাঠে গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিল। একপর্যায়ে শিশুটি একা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে শরিফুলের সঙ্গে তার দেখা হলে সে শিশুটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে রাস্তার পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। স্বজনরা ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাকে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নাটোর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মঈনুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জেসমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শিশুটির শরীরে আঘাত ও নির্যাতনের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। উন্নত ও বিস্তারিত মেডিকেল পরীক্ষার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ঘটনার পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শরিফুলের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনে এবং গণপিটুনি দেয়। এ সময় এলাকাবাসী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে থানায় খবর দেওয়া হয়।

সংবাদ পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া কঠোরভাবে সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমান্বয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে আইনের দ্রুত প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা কঠিন। এই ঘটনায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে গ্রামীণ জনপদে ক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ